

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের বাবা ও মেয়ের জানাজা সম্পন্ন করতে হয়েছে এক পিতাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করে বাড়ি ফেরার পথেই আসে মেয়ের মৃত্যুসংবাদ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফন শেষে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফেরার পথে আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। ফুলবাস আলীর নাতনি মুন্নি খাতুন (২৩) মারা গেছেন বলে খবর পান তারা।
স্বজনরা জানান, দাদার মৃত্যুতে গভীর শোকে ভেঙে পড়েছিলেন মুন্নি। শুক্রবার গভীর রাতে মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করতে করতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। পরে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
মুন্নি খাতুনের বাবা তুজাম উদ্দিন বলেন,বাবার জানাজা ও দাফন শেষ করে বাড়ি ফেরার পথেই জানতে পারি, আমার মেয়ে আর নেই। একই দিনে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
পরিবারের সদস্য নুরুজ্জামান বলেন, চাচাকে শেষ বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরতেই ভাতিজির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার কোনো পরিবারের যেন বহন করতে না হয়।
এদিকে শনিবার বিকেলে একই কবরস্থানে দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই মুন্নি খাতুনকে দাফন করা হয়।
একই দিনে একই কবরস্থানে দাদা-নাতনির চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ঘটনায় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়রা জানান, একই দিনে একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।