শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাব্যতা ফিরলেও নেই ফেরি, অচল চিলমারী–রৌমারী নৌপথ 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

নাব্যতা সংকট কাটাতে ড্রেজিং করা হয়েছে, ফিরেছে ফেরি চলাচলের প্রয়োজনীয় পানির গভীরতাও। নৌপথ সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে। কিন্তু নৌপথ প্রস্তুত থাকলেও নেই ফেরি। ফলে নাব্যতা ফেরাতে খননকাজ শেষ হলেও কুড়িগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা।

গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে সর্বশেষ ফেরি ‘কদম’ কেও গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে পুরো নৌরুটটি ফেরিশূন্য। যানবাহন পারাপারের জন্য আসছে তবে ফেরি না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের কারিগরি পরামর্শে চিলমারী ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন সংকটাপন্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চালানো হয়। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এসব এলাকায় বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে। পলি জমে যাতে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের চিলমারী নদীবন্দরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান বলেন, ‘ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথের সংকটাপন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ফেরি চলাচলে কোনো বাধা নেই।’

এদিকে নৌপথে নাব্যতা ফিরলেও ফেরি চলাচল শুরু না হওয়ায় দ্রুত সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা (ড্রেজিং বিভাগ)। ফেরি সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ও এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ড্রেজিংয়ের পরপরই চ্যানেলটি সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।

নৌপরিবহন সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ ফেরির মাধ্যমে চিলমারী নদীবন্দরে ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। পরে একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ এবং নভেম্বরে ‘কদম’ ফেরি যুক্ত হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে একে একে ফেরিগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ আবারও ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে।

ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে গিয়ে বাড়ছে জ্বালানি ও সময়ের ব্যয়। পাশাপাশি পচনশীল পণ্য পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ব্যয়ও বাড়ছে।

রেল, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, ‘সরকারের বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পর এভাবে ফেরি বন্ধ থাকা হতাশাজনক। দ্রুত বিকল্প ফেরি বরাদ্দের পাশাপাশি এ রুটে নাব্যতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। নদীর তলদেশে দ্রুত পলি জমলে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ফেরি রুট সচল রাখতে নাব্যতা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।’

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, খনন বিভাগের প্রতিবেদন মোতাবেক মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেই সাথে ফেরি আসার জন্যও চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক(বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান বলেন, নাব্যতার কথা আমরা জেনেছি। ফেরি পাঠানোর বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। চিলমারীর ফেরি দুটি ডকিং শেষ হলে ফেরি যাবে কিনা সে বিষয়ে আমরা বলতে পারবো।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank