মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার ভাঙন আতঙ্কে ভিটেহীন শতাধিক পরিবার

‎কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা পানি বাড়ার সাথে ভাঙনের ভয়ে নিঘুর্ম রাত কাটাচ্ছে। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তিস্তা পাড়ের কয়েক একর ফসলি জমিসহ মানুষের ঘরবাড়ি। নদীভাঙন আর বন্যায় জীবনের সবকিছু হারিয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের মাঝি পাড়া, ডাক্তার পাড়া, ভারতপাড়া ও দালাল পাড়ার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে নিঘুর্ম রাত কাটাচ্ছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ তেমন কোনো কাজে আসছে না। নদী ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে তিস্তার জেগে ওঠা নতুন কোনো চরে আশ্রয় নিয়েও বারবার ভাঙনের সম্মুখীন হচ্ছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। এতে অনেক পরিবার নদী ভাঙনের কবলে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীভাঙন, বন্যা আর তিস্তা পাড়ের মানুষের ভাগ্য যেন একই সুতায় গাঁথা। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন যেন স্রোতে ভাসিয়ে দিচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। ‎ ‎হোকডাঙ্গার মাঝি পাড়া গ্রামের বসতবাড়ির অর্ধেক তিস্তার গর্ভে যাওয়া বাবলু চন্দ্র দাস জানান, বাপ-দাদার সমস্ত সম্পদ অনেক আগেই তিস্তা গ্রাস করেছে। কয়েক দফায় বসতবাড়ি তিস্তায় ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখানে বেশ কয়েক বছর থেকে আছি। প্রায় ৭দিন হলো তিস্তা আমার ঘরের অর্ধেক ভেঙ্গে নিয়েছে। এ মুহুর্তে কোথাও ঠাঁই নেয়ার অবস্থা নেই। ‎ ‎নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পরিবারগুলোর মধ্যে সুশান্ত, মনোরঞ্জন, গোপাল ও দুলাল চন্দ্র জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিমাতাসুলভ আচরণের কারনে আমরা আজ অত্যন্ত ভাঙ্গন ঝুঁকিতে আছি। ইতিমধ্যে ডাক্তার পাড়ার প্রায় ৮ একর ফসলি জমি নদি গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে নদী তীরবর্তী ৪ গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। ‎ ‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙ্গন ঠেকাতে নামমাত্র কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রতিবারের মতো এবারও পানি উন্নয়নের পক্ষ থেকে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। তবে এ জিও ব্যাগ কোনো কাজ দিচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত ভাঙ্গন রোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় ফুলবাবু, বেলাল হোসেন, খুদিরামসহ অনেকে জানান, তিস্তার বাম তীরে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার দলদলিয়া, থেতরাই, গুনাইগাছ ও বজরা ইউনিয়নে বিস্তর এলাকায় তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। শুধুমাত্র হোকডাঙ্গা এলাকার মাত্র ১ কিলোমিটার এলাকায় তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় তারা ভাঙ্গনের মুখে পড়ছেন। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নদী তীরবর্তী মানুষেরা। ‎ ‎থেতরাই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডর ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিয়েছে।

৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০০ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬ হাজার জিও ব্যাগ এলাকায় এসেছে, বালু ভর্তির কাজ চলছে। ‎ ‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি এম আরিফ জানান, ভাঙ্গন ঠেকাতে তাৎক্ষনিক ১'শ জিও ব্যাগ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ‎ ‎কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ওই এলাকার নদী ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank