শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কুড়িগ্রাম হবে উত্তরবঙ্গের ‘কৃষি-শিল্পের রাজধানী’: ডা. শফিকুর রহমান ‎ ‎

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
expand
‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কুড়িগ্রামকে উত্তরবঙ্গের কৃষি-শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত পশ্চাৎপদতাকে জেলার প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানের অঙ্গীকার করেন। ‎ ‎বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎ডা. শফিকুর রহমান সীমান্তে নিহত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘ফেলানীর বাবা-মায়ের চোখের পানি দেখেছি। ওটা শুধু পানি ছিল না, রক্তের অশ্রু ছিল।’ ‎ ‎তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাংলাদেশিকে সীমান্তে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে তার দল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কোনো আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। ‎ ‎দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো আধিপত্যবাদ থাকবে না।’ ‎ ‎কুড়িগ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জেলার দীর্ঘদিনের তিনটি বড় দুঃখ নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন দূর করা হবে। নদীকে আমরা শাসন করব, উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়নের নতুন ধারা শুরু হবে।

তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথাও জানান। ‎ ‎সাম্প্রতিক একটি আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি গানের লাইন উদ্ধৃত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় জড়িত ‘কুলপ্রিট’ (অভিযুক্ত) ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। ‎ ‎বক্তব্যে তিনি কয়েকজন নিহত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ওপর দায় তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে মোট ১,৪০০ জন ‘শহীদ’ হয়েছেন এবং তাদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। এমন অঙ্গীকারও করেন তিনি। (এ সংক্রান্ত সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।)

‎জনসভায় পরে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের দলীয় ও জোটের প্রতীক তুলে দিয়ে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। জামায়াত আমির নিজেই স্লোগান দেন এবং উপস্থিত জনতার কাছে ভোট চান। ‎ ‎১১ দলীয় জোটের এ নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেনসহ জোটের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন