শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি আইডি নম্বরেই সব নাগরিক সেবা, ফেসবুকে ওসির প্রস্তাব

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ পিএম আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সুমন।
expand
সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সুমন।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জন্মের পর থেকেই প্রতিটি নাগরিকের জন্য একক পরিচয় নম্বরভিত্তিক কার্ড চালুর প্রস্তাব দেন সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সুমন।

তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

একটি আবেদন করছি! জানি না কে কিভাবে নেবেন কিংবা কার কাছে গিয়ে পৌঁছাবে, বুঝতে পারছি না! আমার ব্যক্তিগত মতামত ও আবেদনসদৃশ কথাগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।

“বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্ম থেকেই নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি কার্ড তৈরি করা উচিত। এর নাম এনআইডি, জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্য যে কোনো নাম হতে পারে। যদিও আলাদাভাবে এসব ব্যবস্থা আছে, তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সঠিকভাবে সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখনো অনেক লোক আছে, যাদের কোনো এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন নেই। সঠিকভাবে জনসংখ্যা হিসাব করা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্ডটি খুবই জরুরি। কীভাবে করতে হবে এবং এর সুবিধা কী—তা একসঙ্গে নিচে উল্লেখ করছি—

১) ভূমিষ্ঠ হলেই সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো সংস্থা থেকে তার জন্য নিবন্ধন করে কার্ড নিতে হবে। নাম তার যাই হোক। যাঁর এনআইডি আছে, তো আছেই; যাঁর নেই কিংবা ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি অথবা জন্মনিবন্ধন করেছেন—তাঁরাও এনআইডি করবেন। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা নির্বাহী অফিস, থানা, ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ইত্যাদি অফিসে নাগরিক সুবিধা নিতে গেলে এনআইডি করেছেন কিনা তা যাচাই করে নেওয়া হবে এবং না করে থাকলে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হবে।

২) ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদেরকে ভোটার কার্ড দিতে হবে। ভোটার কার্ড ব্যবহার করে তারা ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচনের সময় তো প্রার্থীগণ ভোটার স্লিপ দেন। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে ভোটার কার্ড দিলে ক্ষতি নেই তো!

৩) কারো মৃত্যু হলে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কার্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। বাতিল হবে বলতে ব্যবহার বন্ধ হবে। তবে তার আইডিতে তার ওয়ারিশদের তথ্য থাকবে। এতে ওয়ারিশ অনুযায়ী তার সম্পদের পরবর্তী উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা সহজ হবে।

৪) সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, জমির নামজারি, দলিল সম্পাদন, ব্যাংক হিসাব খোলা, চিকিৎসা, শিক্ষা, কেনাকাটা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তার জন্মনিবন্ধন বা কার্ডটি দরকার হবে। এতে সবাই না লুকিয়ে নিবন্ধন করতে বাধ্য হবে।

৫) ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য ইন্টারনেট সুবিধা এবং সিম রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কার্ডটি প্রয়োজন হবে। এমনকি উপরোক্ত সুবিধা পেতে তাৎক্ষণিকভাবে একজন গ্রাহকের সেলফি তোলা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৬) ০৫, ১৮ ও ৩৫ বছরে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংযুক্ত ও ম্যাচিং করা যাবে।

৭) এক সময় এনআইডি নম্বরটি তার জীবনের পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তার সকল তথ্য এখানে থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য কাজে আলাদা করে ভেরিফিকেশন করার দরকার হবে না। জনগণ বিভিন্ন হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত একটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকলে তিনি নাগরিক সুবিধা পাবেন; নচেৎ নয়। এতে দেশের সিংহভাগ অপরাধ কমে যাবে। কেউ অপরাধ করতে গেলে অনেক হিসাব-নিকাশ করবে। অন্যের ওপর অত্যাচার করা এত সহজ হবে না। অপরাধী সহজেই ধরা পড়ে যাবে। ফেক আইডি বন্ধ হবে। একজনের প্রতি অন্যের বিষোদ্গার কমে যাবে। সার্বিক গণ্ডগোল কম হবে। ভিজিএফ চাল বিতরণ, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাসহ অনেক চ্যারিটেবল কাজ সঠিক ও সততার সঙ্গে সম্পাদন করা সহজ হবে। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় কমে যাবে। রাষ্ট্রীয় ফান্ড ভালো থাকবে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করা যাবে।”

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, “বিষয়টি ভালো লাগলে যে যেভাবে পারেন, নিজ নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। ভালো না লাগলে আমাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। সকল মহতি মিডিয়াকর্মীবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তরের সদস্যগণ এটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।”

ফেসবুকে দেওয়া তার এই পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার প্রস্তাবকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনেকে মন্তব্যে লিখেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে নাগরিক সেবা সহজ হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন