

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমার মা-বোনদেরকে নিয়ে বলা হচ্ছে-জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তারা নাকি গার্মেন্টসে চাকরি পাবে না। অথচ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমীর বাংলাদেশে নারীদের জন্য প্রথম মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছেন এবং সেই মেডিকেল কলেজে নারীদেরই চাকরি দিয়েছেন।
সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর হাতেই নারীরা নিরাপদ। জামায়াতে ইসলামী নারীদের সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে এবং বিএনপির ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ডাকবাংলা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ (ডাকসুর) সভাপতি সাদিক কায়েম। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
তিনি বলেন, বিএনপি আজ ভুল রাজনীতি করছে। শহীদ জিয়ার যে বিএনপি ছিল, বেগম খালেদা জিয়ার যে বিএনপি ছিল-সে বিএনপি এখন আর নেই। বিএনপি এখন হয়ে গেছে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মামলা-বাণিজ্য ও মাফিয়া তন্ত্রের দল। সত্যিকার অর্থে যারা শহীদ জিয়ার বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি করতেন, তারা আজ ইনসাফের পক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, গত দেড় বছরে তারা নিজেদের মধ্যে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মেরে ফেলেছে। যে দলের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ না, সেই দলের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? সুতরাং আমরা এমন কাউকে ভোট দেব না, যাদের হাতে আমাদের জীবন নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, আমরা তাকেই ভোট দেব, যার হাতে আমাদের ইজ্জত নিরাপদ থাকবে—আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। আমরা দেখতে পাই, ঐ দল গত দেড় বছর ধরে সারা দেশে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করেছে।
সম্প্রীতি দেখতে পেয়েছেন-গাজীপুরে আমার এক বোনকে হত্যা করা হয়েছে, চট্টগ্রামে ক্লাস নাইনের এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সুতরাং এরকম কাউকে কি আপনারা নেতা বানাবেন? যারা আমার মা-বোনকে বিবস্ত্র করার হুমকি দেয়, আমার মা-বোনদের ওপর দফায় দফায় হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতি আমরা দেখতে পাচ্ছি- তাদের নেতারা, মির্জা আব্বাস থেকে শুরু করে সর্বপর্যায়ের নেতারা বলছে, এই নির্বাচনে নাকি আমার মা-বোনরা হিজাব, নেকাব ও বোরকা পরে কারচুপি করবে।
লজ্জা তাদের জন্য। তারা আমার মা-বোনদের হিজাব, পর্দা ও বোরকা নিয়ে বারবার বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানি করছে। সুতরাং আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি মা-বোনরা গণরায়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দেখিয়ে দেবে- বাংলাদেশে কীভাবে দাঁতভাঙা জবাব দিতে হয়।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. রমজান আলী।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আল মামুন বক্তব্য দেন। জেলা ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
