

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, "প্রতি মুহূর্তে ধর্মের গল্প না দিয়ে ইসলামকে যদি চরিত্রে ধারণ করি, হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে ধৈর্য ধারণ করুন। সরকারের মেয়াদ শেষে জনগণের কাছেই আমরা যাব। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, আর কোথায় ব্যর্থ হয়েছি।"
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে যশোর শহরের চৌরাস্তায় ‘গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে’ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনার পতনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তারা সেই বিজয়ের দৃশ্য দেখে যেতে পারেননি। নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ পাওয়া বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি একটি বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গণতন্ত্রবিহীন পরিস্থিতির পর জনগণ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং জনগণের আস্থা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছেন। সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রতিটি পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমরা রাজনীতি করি।"
যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ অবদার ফারুক, আব্দুল খালেক, খলিল চেয়ারম্যান, কোহিনূর, আনোয়ারুল, প্রবীর হোসেন পলাশ, নাজমুল ইসলাম, আবু বক্কর আবু, লুৎফর ও রফিকসহ সকল হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া এবং যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু করা সরকারের অঙ্গীকার। পাশাপাশি যশোরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং দ্রুত সিসিইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, যশোরে আন্দোলনের সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই ইতোমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। বাকি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে আইন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সার্ভিস কমিশন এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদের সমপরিমাণ অর্থ মওকুফ এবং তিন মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর বিষয়টিও সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বলে তুলে ধরেন।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সমাবেশ সফল করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী।
এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা সরদার নুরুজ্জামানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজেদুর রহমান সাগর।