

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, উজানে নদী সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দখলদারদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে যশোরে ৫ কিলোমিটার পদযাত্রা করেছে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’।
শনিবার পুলেরহাট থেকে দড়াটানা পর্যন্ত এ পদযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পদযাত্রাকালে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নদীর দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু চাঁচড়া ইউনিয়ন এলাকাতেই প্রায় ২০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি মুক্তেশ্বরী নদীর জমি দখল করেছেন। এছাড়া আদ-দ্বীন হাসপাতালের ভবনের একটি বড় অংশ নদীর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল ও প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হরিণার বিল, এড়োলের বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে যশোর শহর ও সেনানিবাস এলাকার কিছু অংশেও জলাবদ্ধতার সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলেরহাটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, জিল্লুর রহমান ভিটু এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ। আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস পদযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
পরে দড়াটানায় অনুষ্ঠিত সমাপনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অনিল বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন জিল্লুর রহমান ভিটু। এতে বক্তব্য দেন উদীচীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, যশোর ইনস্টিটিউটের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ভৈরব আন্দোলনের নেতা হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস এবং রাশেদ খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় মুক্তেশ্বরীর পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে খনন করা ‘জিয়া খাল’ বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গেছে। এছাড়া মুক্তেশ্বরী নদীর কিছু অংশ প্লট আকারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভৈরব নদী খননের সুফল পেতে হলে উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তেশ্বরী নদী ও জিয়া খাল দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নদী ও জলাশয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।