সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরুভূমির উট এবার শার্শায়

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
উটের খামার
expand
উটের খামার

মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত উটের দেখা মিলছে এবার বাংলার সবুজ গ্রামাঞ্চলে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার পুটখালী গ্রামে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি উটের খামার। সৌদি আরব থেকে উট আমদানি করে বাণিজ্যিকভাবে খামার গড়ে তুলেছেন পশুপ্রেমী নাসির উদ্দিন। তার এই উদ্যোগ এখন পুরো এলাকায় সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার।

বেনাপোল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেরা পুটখালী গ্রামে গেলে এখন দূর থেকেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির উটগুলো। একসময় যেসব প্রাণী শুধু টেলিভিশন বা বইয়ের পাতায় দেখা যেত, সেগুলোকে এবার সামনে থেকে দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মানুষ। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন উট দেখতে। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের মাঝেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

খামার মালিক নাসির উদ্দিন জানান, শখ থেকেই প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব থেকে পাঁচটি উট আমদানি করেন তিনি। পরে মানুষের আগ্রহ ও সম্ভাবনা দেখে বাণিজ্যিকভাবে খামারটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। বর্তমানে উটগুলো সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দর্শনার্থী আজিজুর রহমান জানান, বাস্তবে এত কাছ থেকে উট দেখার অভিজ্ঞতা তাদের এই প্রথম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে খামারটি দেখতে এসেছেন। অনেকে এটিকে শার্শার নতুন দর্শনীয় স্থান বলেও মন্তব্য করেন।

খামারের পরিচর্যাকারী আতিয়ার রহমান বলেন, উটগুলোর পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন তিনবার গোসল করানো হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে সয়াবিন, ভুট্টা, ছোলা, আলু, নিমপাতা ও তাজা সবুজ ঘাস। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি উটের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা বলেন, সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে উট পালন সফল হতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারটিতে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সুমন হোসেন বলেন, ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণই বাড়ায়নি, নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিয়েছে। খামারটিতে সফলভাবে উটের বংশবৃদ্ধি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে শার্শা অঞ্চল দেশের অন্যতম উট পালন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন