

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার এলাকায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে। একটি কুকুর শুধু পোষা প্রাণী নয়, একটি পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে সৌভাগ্যের প্রতীক এবং পরিবারের অবিচ্ছেদ্য সদস্য।
মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ জেলে পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনের বাড়িতে বসবাস করেন নির্মল বিশ্বাস (পিতা: সুধীর বিশ্বাস)। স্ত্রী নমিতা বিশ্বাস ও মেয়ে শ্রাবণী বিশ্বাসকে নিয়ে তাদের ছোট সংসার। প্রায় দুই বছর আগে তাদের পরিবারে আসে এই কুকুরটি।
নির্মল বিশ্বাস জানান, কুকুরটি ঘরে আসার আগে তার সংসারে বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। তিনি বলেন, “এই কুকুরটা আমাদের ঘরে আসার আগে আমার ওপর দশ লাখ টাকারও বেশি ঋণ ছিল। সংসারে তখন শুধু দুশ্চিন্তা আর অভাব ছিল। কিন্তু ও আসার পর যেন ভাগ্যটাই বদলে গেল। আল্লাহ যে কোন উপায়ে আমাদের ঋণমুক্ত করে দিয়েছেন। তাই আমরা ওকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করি।”
বিশ্বাস পরিবারের কুকুরটি শুধু ঘরের সঙ্গী নয়, তাদের দৈনন্দিন কাজেও সাহায্য করে। স্ত্রী নমিতা বিশ্বাস বলেন, “আমাদের বাড়িওয়ালা যখন বাসায় থাকে না, তখন আমরা একটা ঝুড়িতে করে বাজারের স্লিপ লিখে পাঠিয়ে দিই। ও নিজেই রাজগঞ্জ বাজারে যায় এবং বাজার করে নিয়ে আসে। মানুষ বিশ্বাসই করতে পারে না।”
রাজগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ও তরকারি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, কুকুরটি নিয়মিত বাজারে আসে। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে কুকুরটি আমার কাছে বাজারের ঝুড়ি, স্লিপ আর টাকা নিয়ে আসে। কখনও আবার শুধু স্লিপ নিয়ে আসে। আমরা স্লিপ দেখে সব সদাই দিয়ে দিই। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। বিষয়টা সত্যিই অবাক করার মতো।”
বিশ্বাস পরিবারের মেয়ে শ্রাবণীর কাছে কুকুরটি যেন শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্রাবণী আবেগঘন কণ্ঠে বলে, “আমি স্কুলে থাকার সময়টা বাদে সব সময় ও আমার সঙ্গে থাকে। ও আমার খেলার সঙ্গী, আমার বন্ধু। এটা কুকুর না, এটা আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। আব্বা যদি কখনো বিক্রি করতেও চায়, আমরা কোনো অবস্থাতেই বিক্রি করতে দেবো না।”
বিশ্বাস পরিবার মনে করে, এই কুকুর তাদের ঘরে শুধু আনন্দই নয়, সৌভাগ্যও এনে দিয়েছে। নির্মল বিশ্বাস বলেন, “অনেকে টাকা দিয়ে সুখ কিনতে চায়। কিন্তু আমাদের সুখটা এসেছে এই কুকুরটার মাধ্যমে। ও আমাদের পরিবারের ছোট্ট সদস্য।”
মন্তব্য করুন
