

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষক হলেন উপজেলার সুবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, “Md Abdul Matin” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের সময়সূচি, শিক্ষক বদলি এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাবাহিকভাবে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পোস্ট সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টগুলো “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯”-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
নোটিশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. জাকিরুল হাসান স্বাক্ষর করেছেন। এর অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মো. আব্দুল মতিন লেখেন, “অতীতের সবই মন্দ ভেবে এনালগে ফিরে আসায় উন্নতি হবে না, আমার মনে হয় অবনতি হবে।”
একই দিনে শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিংয়ে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক পদ্ধতি নিয়ে তিনি আরেক পোস্টে মন্তব্য করেন, “সকাল ৯টায় বিদ্যালয় দেহ পাবে, মন পাবে না।” এছাড়া একটি পোস্টে তিনি “ভিজাইছি” বলেও মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি আলোচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির সম্ভাব্য নতুন নীতিমালা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলে লিখেছিলেন, “কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আপনার মনে হয়?”
শোকজ নোটিশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সুবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন বলেন, “শোকজের জবাবেই আমার প্রতিক্রিয়া থাকবে।”
শোকজ নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।” সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “শোকজের জবাবেই আমি বিষয়টির ব্যাখ্যা দেব।”
মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) এ ধরনের পোস্ট বা শেয়ার 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯' এবং চাকরি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।"
এবিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: শাহ আলম বলেন, "মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শোকজ নোটিশ, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের জবাবসহ প্রতিবেদন পাঠালে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় (আইনগত) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব পোস্ট নিয়ে গত ১৫ জুন তারিখে “প্রাথমিকের সম্ভাব্য বদলি নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাধবপুরের শিক্ষক” শিরোনামে এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অভিযোগ পর্যালোচনা করে সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মতিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।