

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক ইনকিলাব ও এনপিবি নিউজ -এর বাহুবল উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান নোমান-এর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে আরেক সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবাল এর উপরও হামলা চালান বাহুবল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রকিবসহ কয়েকজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বাহুবল ইউএনও অফিসের সিএ এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান ও গোলাম মোস্তফা সৈবালকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বাহুবলের হরিতলা এলাকায় অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, বালু ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নোমান। এতে ক্ষিপ্ত হন বালু মহাল ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুর রকিব। তিনি সাংবাদিক নোমানকে এলাকায় মাদক ও বালু মহাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেন এবং এসব লিখলে বাহুবলের বদনাম হয়' বলে চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু নোমান আহমেদ উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখলে রকিব আরও ক্ষুব্ধ হন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নোমান আহমেদ পেশাগত প্রয়োজনে ইউএনও অফিসে গেলে ওত পেতে থাকা আব্দুর রকিব সিএ-এর কার্যালয়ে ঢুকে আচমকা তার ওপর হামলা চালান। হামলায় সাংবাদিক নোমান গুরুত্বর আহত হন। এসময় আহত সাংবাদিক নোমন কে দেখতে গেলে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবালের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় নোমান ও সৈবালের শরিলে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক ও সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিকে গুরুত্বর আহত সাংবাদিক সৈবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট উসমানী মেডেকেল কলেজ হাসপাতে প্রেরন করেন।
এদিকে, সরকারি দপ্তরে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় বাহুবলসহ পুরো জেলা জুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় সুধীসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত বিএনপি নেতা ও বালু খেকো আব্দুর রকিব ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে বাহুবল প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান মাসুম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীর ওপর ইউএনও অফিসের ভেতর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আব্দুর রকিব শুধু সাংবাদিক নোমান ও সৈবালের ওপর হামলা করেননি, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছেন।
আমরা অবিলম্বে এই চিহ্নিত বালু ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বাহুবলের সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।