

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা-শাহপুর এলাকায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে একাধিক কন্টেইনার উল্টে পড়ার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনেও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি, এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে আখাউড়া থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সকাল থেকে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল, উদ্ধারকারী ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানো, রেললাইন মেরামত এবং পাশের ব্রিজ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় রেললাইন ও নিকটবর্তী ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা বিভাগের রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ট্রেনের অতিরিক্ত গতি, লাইনজনিত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মনতলা স্টেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন বলেন, ‘তেলবাহী ট্রেন সাধারণত কম গতিতে চলে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি তুলনামূলক বেশি গতিতে চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাকা স্লিপ করে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটতে পারে।’
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকার বগি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনতলা বিওপি থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল লুটপাটের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করে এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়, যারা বর্তমানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে।
এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সবাই একযোগে কাজ করছে।
দুর্ঘটনায় মোট ৬টি তেলবাহী কন্টেইনার লাইনচ্যুত হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেলেও বিজিবি সূত্র বলছে, ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তেলসহ দুটি বগি সোজা করা হয়েছে এবং আরও দুটি বগি উদ্ধারের কাজ চলছে। একটি বগি পানিতে পড়ে থাকায় সেটি উদ্ধারে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত ওয়াগনগুলোতে প্রায় দুই লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছিল, যার প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারকিন ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে।
দুর্ঘটনার প্রভাবে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস সিলেট থেকেই যাত্রা বাতিল করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন