

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দিনে-রাতে ৪টি এক্সকাভেটর (ভেকু) ও প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক ব্যবহার করে অবাধে মাটি পাচার করছে।
সরেজমিনে দেখা যায় এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হবিগঞ্জ থেকে মাধবপুর উপজেলা আন্দিউড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের চন্দ্র কুমার সরকারের ছেলে প্রদীপ সরকার পুরাতন পুকুর পুনঃখননের জন্য এক মাস মেয়াদি অনুমতি পান।
রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত ওই অনুমতিপত্রের আওতায় পুকুর খননের কথা থাকলেও, বর্তমানে সেই পুরনো অনুমতির কাগজ ব্যবহার করে পাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ৪টি এক্সকেভেটর ও ২০-৩০টি ট্রাক দিয়ে নিয়মিত মাটি উত্তোলন করায় ফসলি জমির অবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, সম্প্রতি রাতের বেলায় মাটি পাচারের সময় সেনাবাহিনীর অভিযানে একটি চক্র আটক হলেও পরদিন সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী মাটি পাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি এক্সকেভেটর এবং দুটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতরা হলেন—সম্বু সরকার (৬০), রেদোয়ান আহমদ (সোহাগ) (১৭), মারুফ মিয়া (১৭) এবং সালমান (২৫)।
এ বিষয়ে মো. রিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দাবি করেন, মাটি কাটা বৈধ হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “সেনাবাহিনী তাদের আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে, তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”
সেনাবাহিনীর মেজর আসিফ জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “মাটি পাচারের অভিযোগে কয়েকজনকে আটকের কথা শুনেছি। তবে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন