বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে ইজারাবিহীন বালু উত্তোলনে কৃষকদের প্রতিবাদ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ফয়সাল মিয়া এবং তার বালুর স্তুপ ও পরিবহনকারী ট্রাক্টর
expand
অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ফয়সাল মিয়া এবং তার বালুর স্তুপ ও পরিবহনকারী ট্রাক্টর

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামে ইজারাবিহীন অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কাছে জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বহরা ইউপির দেওগাঁও গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে ফয়সাল মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সেখানে বালুর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অভিযুক্তরা স্থানীয় কাদের মিয়া নামে এক ব্যক্তির জায়গায় বালু স্তুপ করে রেখেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ফয়সাল মিয়া (৪৫), পিতা সুলতান মিয়া এবং হীরা মিয়া (৪৬), পিতা মৃত আব্দুর রশিদ। তাদের বাড়ি মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেউ এ কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মামলার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর আশরাফুল করিম সারওয়ার ও আইএসপিআর এর সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম শাম্মী এর জমি ক্ষতিগ্রস্ত করেও বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় তফসিলদার মুজিবুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং অভিযুক্তদের সঙ্গে তার গোপন আঁতাত থাকার অভিযোগও উঠেছে। ফলে অভিযুক্তরা দাপটের সঙ্গে বালু উত্তোলন ও পরিবহন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসী বালু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মুজিবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন