

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লাখ টাকা ঘুস নেওয়া এবং দাবি করা বাকী টাকা না দেওয়ায় তার মূল সনদপত্র আটক করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দিয়েছেন একটি লিখিত অভিযোগ ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
জানা যায়, মো. মোফাজ্জল হোসেন নামের ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামে। যার ভারতীয় তালিকা নম্বর: ৪২২৪৭, মুক্তিযোদ্ধা পরিচিতি নম্বর: ০১৩২০০০২৬২৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সমন্বিত তালিকার ক্রমিক নম্বর: ২৬২। ডিজিটাল সনদ ও স্মার্ট কার্ডও প্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন মোফাজ্জল হোসেন। নিয়মানুযায়ী খোলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সুন্দরগঞ্জ শাখায় একটি হিসাব নম্বরও।
কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তৎকালীন অফিস সহকারী (বর্তমান উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মো. আব্দুস সামাদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার একটি পত্র দেখিয়ে তার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের ভাষ্য, 'যার তারিখ ছিল ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি এবং স্মারক নম্বর ছিল: ৪৮,০০,০০০০.০০৬.২০.০২২.১৮১৩৩। কিন্তু পরে আমি বুঝতে পারি এটা ছিল ভুয়া এবং মোটা অংকের ঘুস নেওয়ার একটা কৌশল।'
তিনি আরো বলেন, পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ভাতা প্রদান কমিটির সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজার রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আকন্দসহ (আবুল ডাক্তার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী (বর্তমান উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মো. আব্দুস সামাদ মিলে আমাকে ভাতা চালু করে দিবে বলে বিভিন্ন খরচ বাবদ ২ লাখ টাকা দাবি করে। পরে আমি এক লাখ টাকা ও সব মূল কাগজপত্র আব্দুস সামাদের হাতে দেই। বাকী এক লাখ টাকা না দেওয়ায় ২০২৩ সাল থেকে ভাতার ব্যবস্থা না করে ওই কাগজপত্র আটক করে রেখেছেন তিনি। এটা বলতে গেলে ওই সময় আমার ছেলে আমজাদের ঘার ধরে বের করে দিতে চেয়েছিল আব্দুস সামাদ। আমি এর প্রতিকার চাই।
মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজার রহমান বলেন, টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে দেড় বছর আগে তার সাথে দেখা হয়েছিল ব্যাংকে। এরপর আর দেখা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, কাগজপত্র সব সংরক্ষণ করে ব্যাংক। আর মুক্তিযোদ্ধার সনদটি আমি অফিসের নির্দেশে সংরক্ষণ করেছি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আবুল হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগের একটি কপি আমিও পেয়েছি। তার কাগজপত্র দেখে যতটুকু বুঝতে পেরেছি সব ঠিক এবং তিনি আসল মুক্তিযোদ্ধা।
উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে জানা নেই। অভিযোগের কপি আমাকে দেন। কথা বলে পরে জানাব।
মন্তব্য করুন
