

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আংশিক কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
একদিকে পদবঞ্চনার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাংশের নেতাকর্মীরা, অন্যদিকে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত ২২ জুন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিদুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রেজাউল ইসলাম রাজকে সভাপতি এবং সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর উপজেলা ছাত্রদলের এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সালথা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে মনগড়া একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, একাধিকবার কারাভোগ করা এবং দলের দুর্দিনে পাশে থাকা অনেক নেতাকর্মীর নাম নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি।
বিশেষ করে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নয়টি রাজনৈতিক মামলার আসামি সাইফুল আলমের নামও কমিটির কোনো পর্যায়ে না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সাইফুল আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি নয়টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাভোগ করেছেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিলেও নতুন কমিটিতে তার কোনো মূল্যায়ন হয়নি।
তিনি কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের প্রতি কমিটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে নতুন কমিটিতে সাইফুল আলমের নাম না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, উপজেলা ছাত্রদলের দুর্দিনের একজন কান্ডারি ও রাজপথের লড়াকু কর্মীকে কমিটির বাইরে রাখা তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় সাইফুল আলমকে তার সাংগঠনিক অবদান ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন একই সময়ে সালথা বাজার এলাকায় নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। পরে তারা মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে অংশ নেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, জেলা নেতৃত্ব যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়েই নতুন কমিটি গঠন করেছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, “ছাত্রদলের কমিটি সব সময় সমসাময়িক যোগ্য ছেলেদের নিয়েই করা হয়। এখানেও তার ব্যত্যয় হয়নি।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর কোনো সংগঠনের কমিটি গঠন হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় পদবঞ্চিতদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি না এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন কীভাবে করা হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের।