

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দস্তরদিয়া গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘটনাটির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত দুই ভাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের ছেলে আবিদ হাসান রবিন (২৬) ও আলিফ হাসান (২২)।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের বড় চাচা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা মো. ইসহাক জানান, প্রতিবেশী জিহাদ মোল্লা একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি। প্রায় ১৫ দিন আগে তার পরিবারের একজন সদস্য গাঁজাসহ যৌথবাহিনীর হাতে আটক হয়। সে ঘটনায় নিজেদের সন্দেহের কারণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে তিনি ধারণা করছেন।
তিনি বলেন, “বুধবার বিকেলে আমার দুই ভাতিজা বাড়ির সামনের একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল খালেকের ছেলে জিহাদ মোল্লা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হয়। জিহাদ স্থানীয় একটি জুট মিলের শ্রমিক।”
ইসহাক আরও বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। আমরা সবাই পাশাপাশি বসবাস করি। হামলার পর জিহাদের বড় ভাই-ই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। জিহাদ সার্বক্ষণিক নেশাগ্রস্ত থাকে। নির্বাচন বা রাজনৈতিক মতভেদ বোঝার মতো মানসিক অবস্থাও তার নেই।”
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধ বলেই জানা গেছে। উভয় পক্ষই নিকটতম প্রতিবেশী। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।”
অন্যদিকে ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে অভিযোগ করেন, আহত দুই ভাই তার কর্মী। তার দাবি, ব্যানার লাগানোর সময় ধানের শীষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, “জিহাদ নামের একজন এই হামলা করেছে। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তবে এ অভিযোগ নাকচ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। শুনেছি মাদক সংক্রান্ত বিষয় থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই। নির্বাচন সামনে রেখে একটি পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির কেউ নয়।”
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মাদক সংক্রান্ত এই সহিংস ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
