সোমবার
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মাসিক চাঁদা নেয়ার অভিযোগ 

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ এএম
শাহিনুর ইসলাম
expand
শাহিনুর ইসলাম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর- ফুলবাড়ী নিয়ে গঠিত সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাসিক চাঁদা নেয়ার পাশাপাশি নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সাথে ঘটে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা।

এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টির সাথে অফিসার ফোর্সদের মাঝে বিরুপ প্রভাব পরেছে।

জানা গেছে, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী থানা পুলিশের মাধ্যমে দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে থাকে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলাম।

গত বছর ১২ নভেম্বর এ পদে যোগদানের পর থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তার। এ দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপ-পরিদর্শকদের (এএসআই) কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে অধিনস্তদের নানা ভাবে হয়রানী করার হুমকি দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন প্রতি নির্ধারিত উপ-পরিদর্শকের (এসআই) ২ হাজার এবং সহকারী উপ-পরিদর্শকদের (এএসআই) জন্য ১ হাজার করে চাঁদার টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ও হয়রানির আশঙ্কাররও অভিযোগ করেন তারা। শুধু তাই নয়, পুলিশের সদস্যদের সার্ভিস রেকর্ডে স্বাক্ষরের জন্য প্রত্যেককে নিজ অফিসে ডেকে ব্যক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবীর পাশাপাশি টাকা আদায়ও করে আসছেন।

পার্বতীপুর মডেল থানায় ২ জন পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), ১৪ জন উপ-পরিদর্শকের (এসআই), ৯ জন সহকারী উপ-পরিদর্শকদের (এএসআই) এবং ৩৬ জন কন্সটেবল কর্মরত আছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৭ জন সাব ইন্সপেক্টর ও ৬ জন এএসআই চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি পুলিশ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরও পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন চাঁদাবাজীর টাকা জোগাতে থানাপুলিশ সদস্যরা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রংপুরের ডিআইজিসহ দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ছাড়াও দুই থানা পুলিশের সদস্যরা।

অভিযোগের বিষয়ে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকর করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, নিজ অফিসে বসে অফিসার ফোর্সদের ডেকে টাকা নেয়ার পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট থাকার পরও কেন বিষয়টি অস্বীকার করছেন? জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ঘটনা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X