সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিডিও ভাইরালের পর অভিযান, দুই দিনে ধরা ২২ ছিনতাইকারী

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী
expand
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী

কক্সবাজার শহরে সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে রোববার মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শহরের বাজারঘাটা, নাপিতাপুকুর, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কটেজ জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যায়।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় দিনদুপুরে পর্যটকদের গলায় ছুরি ধরে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ভুক্তভোগীদের অসহায়ত্ব এবং তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ভুক্তভোগী পর্যটকেরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা সদর মডেল থানায় গিয়ে তারা দ্রুত কোনো সহায়তা পাননি।

এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ঘিরে পুলিশের অবহেলা এবং অপরাধীদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশ নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় প্রশাসন দ্রুত অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে খায়রুল আমিন (মুন্না) ও আব্দুর শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ‘মূল হোতা’ হিসেবে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন খায়রুল আমিন (২৯), আব্দুর শুক্কুর (২৪), মো. আরমান (১৯), জাহেদুল ইসলাম (২৭), মাহাবুব আলম (২২), মনোয়ার হোসেন (২৮), রাজু (২০), রশিদ মিয়া (৩০), রাসেল উদ্দিন (৩৩), আব্দুর শুক্কুর (৩০), আজাদ (৩৮), নজরুল ইসলাম (৫৮), রমজান (২০), রাশেদ (২২) ও রুবেল হোসেন (২৩)।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।

জেলা পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। যারা জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের এই অভিযানকে তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ বলছেন, এটি মূলত চাপের মুখে নেওয়া পদক্ষেপ।

তাদের অভিযোগ, কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালায়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে কয়েকদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া অনেক অপরাধী জামিনে বেরিয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এতে অপরাধচক্র ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না।

তারা মনে করেন, শুধু ঝটিকা অভিযান নয়, বরং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করলেই পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব।

পর্যটননির্ভর শহর হিসেবে কক্সবাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটন খাতে। তাই টেকসই সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন