রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে যবিপ্রবির ১২ পদক্ষেপ

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
expand
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশিকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১২ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

যবিপ্রবির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৩ তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটির এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন। এছাড়াও সভায় কমিটির অন্যান্য সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ:

১. বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে সকল বিভাগ/দপ্তর-কে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃকিত আলো ব্যবহার।

২. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ/দপ্তর-কে বিদ্যমান ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক আলোর অর্ধেক ব্যবহার ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লাইটের ব্যবহার পরিহার।

৩. সকল বিভাগ/দপ্তরকে অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ, দপ্তর, কন্ফারেন্স রুম, ক্লাসরুম ও ল্যাবসমুহে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে তবে সফস্টিকেটেড যন্ত্রপাতি সম্বলিত ল্যাবে সীমিত পরিসরে এসি ব্যবহার করা এবং সকল পর্যায়ে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখার সুপারিশ করা হয়।

৫. যে কোন প্রয়োজনে অফিস ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যানসহ সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা।

৬. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ রাখা।

৭. সকল অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াসরুম ইত্যাদি স্থানে অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় লাইট ব্যবহার বন্ধ রাখা।

৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার।

৯. বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার।

১০. বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যালারি ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে তবে বিশেষ প্রয়োজনে গ্যালারি ব্যবহার করলে এসি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সীমিত পরিসরে ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।

১১. উপরোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী মনিটরিং কমিটি ০২ (দুই) টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিয়মিত সরাসরি তদারকি করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

১২. জ্বালানি সংকটের তীব্রতা সাপেক্ষ্যে বিভিন্ন দূর পাল্লার রুটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চলাচল সীমিত রাখার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবনের সামনে স্ট্যান্ড ব্যানার স্থাপন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশিকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রেরিত পত্রের নির্দেশনা মেনে যবিপ্রবি শিক্ষা, গবেষণা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন