মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়ার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার প্রত্যাহার, আলোচনায় এসআই তপু

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়ার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার, এসআই তপু
expand
ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়ার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার, এসআই তপু

কক্সবাজারের উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ ও সেকেন্ড অফিসার এসআই সঞ্জিত কুমার মন্ডলকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদুত মজুমদার।

তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে দুই কর্মকর্তাকেই জেলা পুলিশ লাইনে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। হঠাৎ এই প্রত্যাহারের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি ইয়াবা উদ্ধারের একটি ঘটনায় অনিয়ম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে অভিযানকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে আলোচিত ঘটনাটির নেপথ্যে উখিয়া থানার এসআই তপুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো কোনো শাস্তির মুখোমুখি হননি। থানা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পুরো ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তপুর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে উখিয়া থানার মালখানার দায়িত্বে রয়েছেন এসআই তপু।

থানা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, মালখানাকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ উখিয়ার পাগলিরবিল এলাকায় পুলিশের এক অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও থানার অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৮০ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেলেও তপুর পরিকল্পনায় মাত্র ১০ হাজার ইয়াবা জব্দ দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাকি ইয়াবাগুলো ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ইয়াবার মালিক হিসেবে পরিচিত কামাল ওরফে ‘সাইত্রিশ কামাল’-এর কাছে প্রায় ৭০ হাজার ইয়াবা ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে এসআই তপুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএসআই রাজেশের বিরুদ্ধে।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসার এসআই সঞ্জিত কুমার মন্ডল এবং থানা প্রধান হিসেবে ওসি নুর আহমদ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রেখে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই তপু বলেন, ওই মামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি মামলার বাদী বা সাক্ষী- কোনোটিই নই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

অন্যদিকে এএসআই রাজেশ বলেন, সাইত্রিশ কামাল নামে কাউকে আমি জীবনে দেখিনি। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এর আগেও উখিয়া থানার মালখানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর টেকনাফের রেজাউল করিমকে ৯২ হাজার ৬০০ ইয়াবাসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ আটক করে। তখন উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো বিক্ষিপ্ত প্যাকেটে ছিল।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ওই ইয়াবার একটি অংশ উখিয়া থানার মালখানা থেকে বের করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কনস্টেবল দাবি করেন, মালখানা থেকে ইয়াবা সরিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রেজাউল করিমের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তার বক্তব্যের একটি অডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে উখিয়া থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারকে প্রত্যাহারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম আলোচনায় এসেছে, সেই এসআই তপুর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Jordan VS Algeria
54'
1 - 0
36' Nizar Al-Rashdan
World Cup