

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাঁকে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) কার্যালয় থেকে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, ইসমাইল হোসেনের এ কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এ কারণে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং বরখাস্তের বিষয়টি তাঁর চাকরির নথিতে লিপিবদ্ধ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসমাইল হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, জন্মসনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে হয়রানি ও জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
এর আগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন।
তাঁকে বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইসমাইল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


