

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলার দুই আসামিকে ২০ বছর করে এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁর কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান এবং তাঁর স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় অভিযান চালায় র্যাব। জেএমবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে র্যাব সদস্যরা বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করেন। পরে র্যাব-৭-এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, তৎকালীন র্যাব সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র্যাব। এরপর তাঁদের আটক করতে ওই অভিযান চালানো হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, মামলাটি কুমিল্লায় বেশ আলোচিত ছিল। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর তিন সন্তান থাকা, স্বামী কারাগারে থাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


