

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয় এবং শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এস আলম গ্রুপের অন্যান্য কারখানাতেও শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস এনওএফ, চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েল।
এসব কারখানায় চিনি, ইস্পাতের পাত, ঢেউটিন ও অন্যান্য ইস্পাতপণ্য, ব্যাগ, সিমেন্ট এবং ভোজ্যতেল উৎপাদন করা হতো।
এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসমত আলী বলেন, ‘কাঁচামালের সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন চলছিল না। প্রায় দুই বছর এক রকম কাজ ছাড়াই আমাদের বেতন দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এখন আর না পেরে আমাদের বিদায় করেছেন।’
কারখানাসংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা বলেন, গতকাল দুপুরে কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। আকস্মিক ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের দাবি, শুধু এস আলম সুগার নয়, সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকেরা জানান, গতকাল দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকে বন্ধ ঘোষণা ছিল। তবে মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছু দিন কারখানাগুলো চালু ছিল। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। তবে এবারই সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এক কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০। অন্যান্য কারখানায় সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল।
জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’