

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি শতবর্ষী করবস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমিরমৌলানা ইদ্রিসের বিরুদ্ধে। নির্মিত এ প্রাচীরের মাধ্যমে কবরস্থানকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মৌলানা ইদ্রিস কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
এ ঘটনায় কলাউজানের শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর জমা দিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী শিহাব উদ্দীন।
অভিযোগে কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলানা ইদ্রিস, তার দুই চাচাতো ভাই আবুল বশর ও আনোয়ার হোসেনসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাউজানে অবস্থিত খালাদাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন সর্বজনীন কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের প্রায় শতাধিক পরিবারের একমাত্র দাফনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও সর্বসাধারণের কবরস্থান হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে কবরস্থান উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ আনা হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ ব্যবহার করে কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা কার্যত কবরস্থানকে বিভক্ত করে একটি অংশকে নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টা। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের দাফন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের মাঝখানে ইটের প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এ সময় অভিযুক্ত ইদ্রিস চেয়ারম্যান, তার দুই ভাই এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কয়েক দফা আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে চুনতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পরপরই আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের খতিয়ানভুক্ত জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করছি।’ তবে কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করে কেন প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। চুনতি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সার্বজনীন উন্নয়ন বরাদ্দ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।