বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া সেই ব্যক্তির পরিচয় মিলল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দিয়ে ভাইরাল লাল বৃত্তের ব্যক্তি
expand
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দিয়ে ভাইরাল লাল বৃত্তের ব্যক্তি

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান যাচাই করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন গরম তরকারি চামচে তুলে ফুঁ দিচ্ছিলেন, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি সেই চামচে ফুঁ দিয়ে খাবার ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

পরে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জি আর এম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ। তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার বড় ভাই সরকারের একজন যুগ্ম সচিব।

গত ২৫ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন।

পাশাপাশি রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নিজে খেয়ে এর গুণগত মানও পরীক্ষা করেন। তখনই গরম তরকারি ঠান্ডা করতে গিয়ে ঘটে আলোচিত ওই ঘটনা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খাবার পরীক্ষার জন্য তরকারি তুলেছিলেন এবং সেটি অত্যন্ত গরম ছিল। তিনি মন্ত্রীর পাশেই অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে খাবারটি ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যেই তিনি ফুঁ দিয়েছিলেন। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমি তো উনার পাশে ছিলাম। উনি যেটা টেস্ট করার জন্য নিয়েছিলেন, সেটা অনেক গরম ছিল। জাস্ট ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম। পরে দেখলাম বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে, বিভিন্ন ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। মানুষ আমাকে চেনে না, জানে না। না জেনেই নানা ধরনের মন্তব্য করছে।’

মন্ত্রীকে খুশি করা বা তোষামোদ করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন এই চিকিৎসক। তার বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষ যেটা কমেন্ট করছে, এমন কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল না। আমি শুধু পাশে ছিলাম, তাই খাবারটা ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছি। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’

ঘটনাটি নিয়ে এত সমালোচনা হবে তা কল্পনাও করেননি বলে জানান ডা. রিয়াজ। তিনি বলেন, পাশাপাশি অবস্থান করলে অনেক সময় মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু কাজ করে ফেলে, যা আগে থেকে ভেবে করা হয় না। তবে সাধারণ একটি বিষয় নিয়েও মানুষ যেহেতু ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা করে, তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবেন।

জানা যায়, ডা. জি আর এম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ ছাত্রজীবনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ৩২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন।

দেবীদ্বারে কর্মরত অবস্থায় কিছুদিনের মধ্যে তিনি ওএসডি হয়ে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ড্যাবের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে ওই কমিটি স্থগিত রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসাবিদদের মধ্যে আবারও খাবারে ফুঁ দেওয়ার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ফুঁ দেওয়ার সময় মানুষের মুখ থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গরম বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

রক্তের পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট হলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে অনেকেই খাবারে ফুঁ দিয়ে খাওয়াকে স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন না। বিশেষ করে একাধিক মানুষের জন্য পরিবেশিত খাবারের ক্ষেত্রে ফুঁ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন