

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজুও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সাক্ষীর জবানবন্দিতে তিনি আদালতকে বলেন, ফ্ল্যাটে ঢুকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখে রেগে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রীকে চড়থাপ্পড় মারেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীর আদালতে সাক্ষ্য দেন জাকিরুল ইসলাম রাজু।
সাক্ষী জাকিরুল ইসলাম রাজু রামিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের ভিডিও করেন। সেই ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাক্ষীর জবানবন্দিতে জাকিরুল ইসলাম রাজু বলেন, ঘটনার দিন রামিসা নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে তার পরিবারের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করে প্রধান আসামি সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান তিনি। এ সময় সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার কড়া নাড়তে থাকেন এবং ডাকাডাকি করেন তারা।
কিন্তু ভেতর থেকে প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না কোনো সাড়াশব্দ করেননি এবং দরজা খোলেননি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
এই নৃশংস দৃশ্য দেখে তারা সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। পরে রাজু ক্ষেপে গিয়ে স্বপ্নাকে চড়থাপ্পড় মারেন এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে আদালতে আনা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আদালতের বিচারক বিচার কাজ শুরু করেন।
প্রথমে রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে এক এক করে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামীকাল বুধবার মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব শত্রুতা ছিল না।
