বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেংটার মেলা ঘিরে মাদক-অশ্লীলতার ছড়াছড়ির আশঙ্কা

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন। ফাইল ছবি
expand
লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন। ফাইল ছবি

এক সপ্তাহ পর ১৭ চৈত্র থেকে শুরু হচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ১০৭তম লেংটার মেলা।

সাত দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে মেলার আগমুহূর্তেই মাদক কেনাবেচা, সেবন, অশ্লীল নৃত্য ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে মেলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে মেলার প্রস্তুতি।

দোকানপাট সংস্কার, অস্থায়ী স্টল নির্মাণ ও ভক্তদের আস্তানা গড়ে তোলার কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় আশেকান-ভক্তদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর তার মাজারকে কেন্দ্র করে চৈত্রের ১৭ তারিখে ওরশ ও মেলার আয়োজন করা হয়। ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজনে প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

তবে প্রতি বছরের মতো এবারও মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলায় শতাধিক গাঁজার দোকান, আফিমসহ বিভিন্ন মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন স্থানে অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানোরও পায়তারা করছে একটি চক্র।

মাজারের পশ্চিম পাশে পুকুরপাড়, বাগান এলাকা ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্থানে প্রতিবছরই মাদক সেবন ও বিক্রির হাট বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেশাগ্রস্তদের সমাগম ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আলী আজগর নামে এক আশেকান বলেন, আমি প্রতি বছরই মেলা শুরুর প্রায় এক মাস আগে চলে আসি। এখানে এসে মনের মতো করে গাঁজা সেবন করতে পারি। আমি লেংটা বাবার ভক্ত, ২৬ বছর ধরে আসছি। এবারও এসেছি, মেলার পর আরও ১৫ দিন থাকব।

অন্যদিকে, উপজেলার তালতলী গ্রামের গাজী এমদাদুল হক মানিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লেংটার মেলার নামে যেভাবে মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কিশোর-তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, এবার যেন কঠোরভাবে এসব বন্ধ করা হয়।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি মাজার কমিটি ও স্থানীয়দেরও সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, মাজারের বাউন্ডারির ভেতরে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। বাইরে কোথাও যদি এসব হয়ে থাকে, তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।

আমরাও চাই, ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো খারাপ কাজ না হোক। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। মাজার এলাকায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রতি বছরই এখানে ওরশ ও মেলা হয় এবং ব্যাপক জনসমাগম ঘটে।

এ বছর জেলা পুলিশ সুপারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোথাও যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে। সে অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, জুয়া, ছিনতাই, অশ্লীলতা ও মাদক বেচাকেনা রোধে প্রশাসন কঠোরভাবে কাজ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন