

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে তল্লাশির সময় প্রাইভেটকার ফেলে ১৫ মামলার আসামি এক মাদককারবারি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই গাড়ি থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর রেলক্রসিং থেকে প্রায় ৫০ গজ উত্তরে আখাউড়া বাইপাস-সিংগারবিলগামী পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরের পর আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় আখাউড়া থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই মো. আলী রেজা মামুন ও এএসআই মো. বিল্লাল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, দুপুরের পর মাদকবিরোধী চেকপোস্টে সন্দেহজনক একটি গাড়ি থামিয়ে চালককে গাড়ির পেছনের ডালা খুলতে বলা হয়। একপর্যায়ে সে গাড়ি থেকে নেমে ডালার কাছে এসে হঠাৎ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তার পিছু নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দৌড়েও তাকে আটক করতে পারেনি। পরবর্তীতে তার ফেলে যাওয়া ‘প্রোবক্স’ মডেলের টয়োটা প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে বিআরটিএ থেকে জব্দ করা গাড়ির তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গাড়ির মালিক মো. জহিরুল ইসলাম (৩৫) একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের মো. জজ মিয়ার ছেলে। তার নামে বিভিন্ন থানায় পূর্বের ১৫টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে পলাতক দেখিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে পুলিশের চেকপোস্ট থেকে একজন মাদককারবারি এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দক্ষতায় ঘাটতি, গাফিলতি কিংবা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
‘মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই’-এর সভাপতি মফিজুল আলম পুষ্প বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরে মাদক ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের সামনে থেকে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এভাবে পালিয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় পুলিশের ওই সদস্যদের কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পুলিশের তল্লাশিকালে এক মাদককারবারি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কারও গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।


