

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিতাস নদীর পাড় বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভরাট করা স্থান থেকে বালু অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নবীনগর লঞ্চঘাটের ওপারে আহমেদ গার্ডেন সিটির পাশে তিতাস নদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই-তিন দিন ধরে আহমেদ গার্ডেন সিটির স্বত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রাতের আঁধারে নদীর পাড়ের জায়গায় বালু ফেলে ভরাট করে দখলের চেষ্টা করেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিতাস নদীটি তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছেন। একসময় নদীটির প্রস্থ প্রায় ৫২০ ফুট ছিল বলে তাদের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে নদীটি বর্তমানে অনেকটাই সরু হয়ে খালের মতো পরিণত হয়েছে। নদী ভরাটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হলে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসন সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটি আমার। তবে সিএস রেকর্ডে এটি নদীর জায়গা। আমি ক্রয়সূত্রে জায়গাটির মালিক। শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া নদীর জায়গা ভরাট করা আমার ঠিক হয়নি। প্রশাসন আমাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বালু অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে নদী ভরাটের বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে পরিদর্শন করি। নদীর পাড় বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভরাট করা স্থান থেকে বালু অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অপসারণ করা বালু নিলামে দেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ রফিকুল বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি নদীর জমি ভরাট করেছেন,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরিবেশের ক্ষতি হয়,এমন কোনো পদক্ষেপ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।


