সোমবার
০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কসবায় উজানের পানি নেমে আশার আশংকা, কৃষি অফিসের সতর্ক মাইকিং

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পাকা বোরো ধান
expand
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পাকা বোরো ধান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পাকা বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও ধানের কম দামের কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এদিকে ভারতীয় ঢলের পানির আশংকায় উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রতিটি এলাকায় মসজিদের মাইকে ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষক বৃষ্টির কারনে ধান কাটতে পারছেনা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহব্যাপী চলমান টানা বৃষ্টি ও জমিতে পানি জমে থাকায় ঝড়ো হাওয়ায় নুয়ে পড়া জমি কাটতে সাহস পাচ্ছেনা। কারন ঝড়-বৃষ্টির আগে কাটা ধানই শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। অধিকাংশ কৃষকের ঘরে সিদ্ধ করা ধান শুকাতে না পারার কারনে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি অধিকাংশ জমির পাকা ধান এখনো মাঠে পড়ে আছে। কোথাও পানির নীচে আবার কোথাও পানি জমে জমিতে কাদার নীচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পাকা বোরো ধান। অন্যদিকে কোনো সময় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । সব মিলিয়ে এখন নিরুপায় কৃষক।

উপজেলার হাতুড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন, বৃষ্টির আগে যে ধান কেটেছি, সেগুলোই ঠিকমতো শুকাতে পারছি না। এখন জমিতে পড়ে থাকা ধান কাটলেই কি হবে। শুকাবো কিভাবে। তাই বাধ্য হয়েই ধান কাটতে পারছিনা।

শিমরাইল গ্রামের কৃষক আবু হাসান বলেন, প্রতি মন কাঁচা ধানের দাম মাত্র ৭০০ টাকা। এই দামে ধান বিক্রি করে খরচই ওঠে না। তারপর ধান কাটার সময় ঝড়-বৃষ্টি যেন আমাদের মতো কৃষকদের জন্য "মরার উপর খাড়া ঘা"। এত টাকা খরচ করে ধান চাষ করে কোন লাভ নাই। সামনের দিকে ধান চাষ করার আগ্রহ পাচ্ছি না।

এছাড়াও বেশ কয়েকজন কৃষক জানায়, কৃষি অফিস থেকে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য মাইকিং করলেও আগে কাটা ধানই বৃষ্টির জন্য শুকাতে পারছেন না তারা। তাই কৃষি অফিসের হুশিয়ারি শুনলেও এরা নিরুপায়। ভাগ্য ভাল হলে যদি কয়েকদিন রোদ উঠে তাহলে আগের কাটা ধানগুলো শুকাতে পারবো। তখন জমিতে পড়ে থাকা ধান কেটে ঘরে তোলার একটা পরিবেশ করতে পারবে। না হয় নতুন করে কাটা ধান বাড়িতে আনলেও রাখার জায়গা বা পরিবেশ হবে না। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আমরা এ বছর লাভের চেয়ে লোকসানই গুনতে হবে বেশী। এতে ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, একদিকে চলছে ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্যদিকে রয়েছে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে অতিবৃষ্টির কারনে নেমে আসা ঢলের পানির আশঙ্কা। তাই কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে। সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। ভারত থেকে নেমে আসা সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে । দ্রুত ধান কাটা না গেলে মাঠের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি অফিস। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে মসজিদের মাইকে ধান কাটার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন