

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ভূমি অফিসে জমেছে প্রায় এক হাজার নামজারি আবেদন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। কারও জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা, কেউ জমি সংক্রান্ত কাজ শেষ করে চিকিৎসার খরচ মেটাতে চান, আবার কারও প্রয়োজন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগানো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
এরই মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে গাবতলী উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)—এসিল্যান্ড পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে নামজারির পাশাপাশি মিসকেস ও আদালত-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমেও জট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে জমা পড়া প্রায় এক হাজার নামজারি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ভূমির মালিকানা পরিবর্তন, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নামজারি প্রয়োজন হওয়ায় এসব আবেদন আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ভূমি অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জরুরি জমি সংক্রান্ত কাজ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
অফিস সূত্র আরও জানায়, এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শামীম ইসলাম প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বদলি হন। এরপর গত ৮ জুলাই শাহানাজ পারভীন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। তবে মাত্র সাত দিনের মাথায় তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে।
এদিকে এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভেজালপণ্য তৈরি থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো জহুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় যেসব কাজে সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলোর গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউএনওর উদ্যোগে ২৩০ নামজারি সম্পন্ন।
এদিকে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান একসঙ্গে পৌরসভাসহ তিনটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নামজারি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউএনও বলেন, নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই। প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। তারপরও জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২৩০টি নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে দ্রুত গাবতলী উপজেলা ভূমি অফিসে একজন স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত এসিল্যান্ড পদে কর্মকর্তা যোগ দিলে নামজারি, মিসকেস ও আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রমের জট কাটবে এবং ভূমি সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিও কমবে।


