

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বগুড়ার সদর উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও সাগর নামে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় বর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর এবং ১৫টি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনে পক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিল পারিবারিকভাবে।
নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর পক্ষের অভিযোগ, গেটের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় নারী পুরুষসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। হামলার সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাদের একজন স্বজনকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার বলেন, আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে এলেও কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। নারীদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজনকে জোর করে পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিতদের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বরের মামি মাহমুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও আমরা ৫০০ টাকা দিতে চাই। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করে চলে যেতে চাইলে আমাদের পথরোধ করে মারধর করা হয়। এমনকি ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকিও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কনে পক্ষ বর পক্ষের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বর পক্ষের লোকজনই প্রথমে হামলা চালায় এবং বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তারা কোনো ধরনের হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
বিয়ের ঘটক শামসুল হক বলেন, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দিন বর পক্ষ অতিরিক্তভাবে শেরওয়ানির দাবি তোলে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, গেটের বকশিশ নিয়েও প্রথমে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ৭০০ টাকায় বিষয়টির সমাধান করা হয়। কিন্তু এরপর কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে, বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী বলেন, গেটের বকশিশের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে বর পক্ষ বিয়ে না করে ফিরে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন এবং কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের যেতে বাধা দেন। একপর্যায়ে বর পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে উদ্ধার করে।
এসআই সোলেইমান আলী বলেন, আহতদের মধ্যে বর পক্ষের দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।