শনিবার
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তালতলীর নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
তালতলীর নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত
expand
তালতলীর নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় অবস্থিত নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত, যা স্থানীয়ভাবে ‘ডিসি পয়েন্ট’ নামেও পরিচিত, ক্রমেই পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে এই সৈকত প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।

সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ ভূমি, কাদামাটির ওপর নরম ঘাসের গালিচা, এক পাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্য পাশে নদীর মোহনা সব মিলিয়ে নিদ্রারচর যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত ক্যানভাস। কেওড়া গাছের শ্বাসমূল, এঁকেবেঁকে যাওয়া সরু খাল, জোয়ারের সময় পানিতে ভরে ওঠা নালা আর লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ এই সৈকতের সৌন্দর্যকে করেছে আরও জীবন্ত।

বিকেলের নরম রোদে সবুজ ঘাসে বসে সাগরের পানিতে পা ভিজিয়ে সময় কাটানো কিংবা সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ সব মিলিয়ে নিদ্রারচর এখন পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণের নাম।

পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকত। এখান থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত এবং দক্ষিণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি (ফাতরার বন) ও সোনাকাটা ইকোপার্ক। এছাড়াও আশপাশে রয়েছে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ১৩টি পল্লী। ফলে নিদ্রারচরকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিশান-বাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ায় অবস্থিত শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ। তালতলী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই সৈকতটিও ধীরে ধীরে সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

সোনাকাটা ইকোপার্ক বা টেংরাগিরি ইকোপার্ক দক্ষিণা বাতাসে ঘেরা ম্যানগ্রোভ বনভূমির এক নিভৃত আশ্রয়স্থল। সরকারি উদ্যোগে ইকো-ট্যুরিজম পরিকল্পনার আওতায় সাজানো এই বনাঞ্চল এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

তালতলী উপজেলায় বসবাসরত প্রায় দুই হাজার রাখাইন জনগোষ্ঠীর ১৩টি পল্লী কবিরাজপাড়া, তালতলীপাড়া, আগাঠাকুরপাড়া, তাঁতিপাড়া, মনুখাপাড়া, মোমেষেপাড়া, ঠংপাড়া, লাউপাড়া, ছাতনপাড়া, তালুকদারপাড়া, বড় অংকুজানপাড়া, ছোট অংকুজানপাড়া ও সওদাগরপাড়া পর্যটকদের জন্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান জানান, নিদ্রারচরের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করছে। পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নিতে পারে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করছে।

ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি বাস বা নিজস্ব গাড়িতে তালতলী হয়ে নিদ্রারচর সমুদ্রসৈকতে যাওয়া যায়। নৌপথে বরগুনা বা আমতলীতে এসে সেখান থেকে সড়কপথে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। তালতলী শহরে আবাসিক হোটেল, জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাম্পান ডাকবাংলো ছাড়াও সম্প্রতি চালু হওয়া ‘জল তরনী’ তাবু ঘর পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ যোগ করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X