বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসার চালাতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
expand
ছবি : সংগৃহীত

দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় বাস করেন রেহানা খাতুন। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন। ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দিতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মর্মবেদনা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, রেহানা আগে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশে সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

বর্তমানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করেছেন রেহানা। তবে অর্থের অভাবে ঘরটি এখনো পূর্ণতা পায়নি। কয়েক মাস ধরে শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। টিন ও বেড়া না থাকায় প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে সে তার চুল বিক্রি করেছে।

রহিম শেখ বললেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার সন্তানদের নিয়ে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

রেহানা খাতুন বললেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন