

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকায় প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ভুটানের রাজা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের জন্য শুভকামনা জানান তিনি। রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশ সরকারের ও জনগণের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ভুটান—এ বিষয়টি স্মরণ করে তিনি ভুটানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের সাবেক রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের আন্তরিকতা ও শুভকামনার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন ভুটানের রাজা।
সাক্ষাতে ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন ভুটানের রাজা। রাষ্ট্রপতি উদ্যোগটির প্রশংসা করে জানান, আঞ্চলিক উন্নয়ন, পারস্পরিক কল্যাণ ও টেকসই সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে ভুটানের উদ্দেশে রওনা হয়।


