বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটের সেই ইকনকে আর্থিক সহযোগিতাসহ এক মাসের ছুটি দিল কৃষি ব্যাংক

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

বাগেরহাটে বাবার দাফন শেষে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া অসহায় ইসমাইল ইকনকে আর্থিক সহায়তা ও বেতনসহ এক মাসের ছুটি দিয়েছে কৃষি ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষি ব্যাংকের বাগেরহাট আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইকনের হাতে এই অর্থসহায়তা তুলে দেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হাশেম মিয়া।

এ সময় কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. তরিকুল ইসলাম খান, শাখা ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, ব্যাংক কর্মকর্তা জগলুল কবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন ইকনকে এক লাখ টাকা এবং বেতনসহ এক মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইকনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হাশেম মিয়া বলেন, ‘ইকনের বাবা মারা যাওয়ায় আমরা শোকাহত। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজ সঞ্চিয়া বিনতে আলীর পক্ষ থেকে আমরা ইকনকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও ইকনের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছি।’

এদিকে এদিন দুপুরে অসহায় ইসমাইল ইকনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ইকনকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এবং ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবা উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং ইকনের মামা বাবু।

জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের অনেকেই ইকনের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দপ্তর থেকেও ইকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইকনের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান ইসমাইল ইকন।

তিনি বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর জীবনটা আরও কঠিন হয়ে গেছে। বাবার শোক, চাকরি ও পরীক্ষা—সবই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। তবে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আমার খোঁজ নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পিএ আমাকে ফোন দিয়েছেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। জেলা প্রশাসক আমাকে ডেকে নিয়ে আর্থিক সহায়তা করেছেন। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন আমার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ণ বেতনে এক মাসের ছুটিও দিয়েছে। এজন্য আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওই দিন বিকেলে বাবার দাফন শেষে রাতেই বাগেরহাট শহরের কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরদিন সকালে সরকারি পিসি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। চলতি বছরের মে মাস থেকে ইকন কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে চাকরি করছেন। এর আগে পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে এলাকায় টিউশনি করতেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন