

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে উদ্ধার করা আহত বাঘটির শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে বাঘটি খুলনার বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি উদ্ধারকালে বাঘটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিল। তবে চিকিৎসা শুরুর পর বাঘটি পানি পান ও খাদ্য গ্রহণ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক বন্য ক্ষিপ্রতা ফিরে আসছে। বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাঘটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাঘটি এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ড. হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে খুলনায় পৌঁছে বাঘটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেন। বুধবার সকালে বিশেষজ্ঞ দলটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাঘটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাঘটির চলনভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে তারা ধারণা করছেন, এর কোনো হাড় ভাঙেনি যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চিকিৎসক দল আশা প্রকাশ করেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাঘটি সুস্থ হয়ে পুনরায় বনে ফিরে যেতে পারবে।
তবে বর্তমানে বাঘটির ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়া চলমান থাকায় মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন বিভাগ। যেহেতু এটি একটি সম্পূর্ণ বন্য প্রাণী এবং আগে কখনো মানুষের সংস্পর্শে আসেনি, তাই দ্রুত সুস্থ করে তুলতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. গোলাম হায়দার, কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল), ঢাকার প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. গোলাম আযম চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ঢাকার এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা. নাজমুল হুদা।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন, বাঘটির অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন
