

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি জেলাজুড়ে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় সীমান্তবর্তী বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শুধু খোয়াই নয়, জেলার নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার কুশিয়ারা নদী, লাখাই উপজেলার ধলেশ্বরী নদী, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার সুতাং নদী এবং মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলায় ১০৯ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, হাওর এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধসংলগ্ন বসতিগুলোর মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরে খোয়াই নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৫ কিলোমিটার। নদীর উভয় তীরে কয়েকটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, "বর্তমান হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।"
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে কৃষিজমি, মৎস্য খামার, বসতবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ এবং জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।