

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা ঝালকাঠির নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে যোগদানের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জরুরি তলবে ঢাকায় ফিরে গেছেন।
এ ঘটনাকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে তিনি সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার ঘণ্টা পরই সন্ধ্যায় আইজিপির জরুরি তলবে তাকে ঢাকায় যেতে হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার একটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সিনিয়র সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই অডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, পুলিশ সুপার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা রয়েছে। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, নিয়োগের পর অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও তা না হওয়ায় অডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বদলি সরকারের সিদ্ধান্তে হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডের বিষয়টি বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এটি ছড়ানো হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "দৈনিক দেশ রূপান্তরের ঢাকা অফিসের সাংবাদিক হামিদের সঙ্গে আমার কথোপকথনের অংশবিশেষ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, আমার বদলির বিষয়ে তার ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কার মাধ্যমে তা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
বর্তমানে তিনি ঝালকাঠির দায়িত্বে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুল আলম মোল্লা বলেন, "আমাকে আপাতত ওয়েটিংয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হবে, আমাকে কোন জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।