সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিজান হত্যা: খেলাফত মজলিস ও ওলামা দল নেতাসহ আসামি ২১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে মো. সিজান নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের মা শিল্পী বেগম।

মামলায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় এ হত্যা মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে জানান ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

তিনি বলেন, “মরদেহ দাফনের পর নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।”

মামলার এজাহারনামীয় আসামির হলেন: পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)।

তারা ছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়।

মামলার এজাহারে বাদী লিখেছেন, নিহত সিজান তার ছোট ছেলে। সে অসৎ সঙ্গে বিপথে গেলেও পরিবারের লোকজন তাকে ওইসব কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। এজন্য তাকে তাবলীগেও পাঠানো হয়েছিল। ভালো দিকে ফিরে সিজান তার বড়ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসাতেও সহযোগিতা করছিল।

গত শনিবার বিকেলে অনিক (২৮) নামে এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে আটকে পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে মারধর করছিল অভিযুক্তরা। অনিকের ভাষ্যে তারা বিকেল চারটার দিকে সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং একই জায়গায় নিয়ে মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের মা শিল্পী।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে তারা দুʼজনকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। ব্যথায় চিৎকার করলে অভিযুক্তরা সিজানের মুখে কালো কাপড় বেঁধে পেটায়। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে অনেক অনুনয় বিনয় করি, কিন্তু তারা আমার সামনে আমার ছেলেকে পেটাতে থাকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় আমার ছেলেকে আমার জিম্মায় দেয়।”

সিজানকে ওই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করেন বাদী।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিজানকে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে ধরে আনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তারা সিজান ও অনিককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন মিলে বেধরক পেটায়।

অভিযুক্তরা পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা এবং আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্য। তারা সংগঠনের নামে এলাকায় প্রায় সময়ই 'মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী' 'অভিযান' চালান। এর আগেও এ সংগঠনের নামে তারা একাধিক ব্যক্তিকে ধরে এনে কার্যালয়ের সামনে মারধর করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

সংগঠনের নামে চালানো এসব কার্যক্রমের কয়েকটি ভিডিও মুফতি কাউছার কাসেমীর নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টেও পাওয়া গেছে। সিজান ও অনিককে আল ফালাহ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

সিজান হত্যার ঘটনার রাতে একটি ভিডিওতে স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায় মুফতি কাওছারকে বলতে শোনা যায়, “যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তারে মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।”

যদিও পরদিন বিকেলে এলাকায় সাংবাদিকদের ডেকে দেওয়া এক বক্তব্যেও কাউছার কাসেমী দাবি করেন, সিজান ছিল মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী। শনিবার সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ আগে বিক্ষুব্ধ জনতা সিজানকে ধরে তাদের কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তারা নামাজ শেষে বিষয়টি দেখার কথা জানিয়ে মসজিদে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।

সিজানকে পেটানোর ঘটনায় তাদের সংগঠনের কেউ জড়িত নয় বলে সংগঠনের উপদেষ্টা ও ওলামা দল নেতা জিলানী ফকিরও।

যদিও সোমবার দুপুর থেকে কাউছার কাসেমী ও জিলানী ফকিরের মুঠোফোনের নম্বর বন্ধ পাওয়ায় মামলার বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Spain
Scheduled
07 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup