

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমির নিষ্পত্তির সালিশি বৈঠকে মারামারির ঘটনায় মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫) নামের এক জাপা নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে ও জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আটককৃতরা হলেন, একই গ্রামের মো. গোলজার হোসেন (৬৫), তার ছেলে মো. লিটন মিয়া (২৮), মো. রিপন মিয়া (১৯), মেয়ে মুস. রত্না আক্তার (৩০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫)।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় দুটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দিলদার রহমানের পরিত্যক্তা স্ত্রী গোলেনুর বেগমকে বিয়ে করেন। গোলেনুর বেগমের আগের স্বামীর ঘরের ছেলে ছিলেন গোলজার রহমান। পারিবারিক সিদ্ধান্তে আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় গোলজার রহমানকে ২২ শতক জমি প্রদান করেন। পরে গোলেনুর বেগম ও আছর উদ্দিনের সংসারে আমজাদ হোসেনের জন্ম হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ২২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমজাদ হোসেন ও গোলজার রহমানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার সময় আবারও ডাকা হয়েছিল সালিশি বৈঠক। ওই সভাপতিত্ব করছিলেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লেবু। সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদও। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন এ সালিশি বৈঠকে। আর এ বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন জাপা নেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়া। তিনি সালিশি বৈঠকে পৌঁছামাত্র সবার উপস্থিতে তার উপর হামলা চালান মো. গোলজার হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন। এতে গুরুতর আহত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়াকে এ সময় মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়ার মা মোছাঃ রোসনা বেগম বলেন, 'ওই মিটিং-এ চেয়ারম্যান ছিল, বিএনপির বাবুলও ছিল। তামার (তাদের) সামনে আমার ছেলেটাকে মারছে। ওমরা (ওরা) কেউ আউগায় (এগিয়ে) নাই। ওমরায় আমার ছেলেটাকে মাইরছে। আমি বিচার চাই।'
এ বিষয়ে কথা হয় সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা উঠানের মালিক মো. আবুল কালাম আজাদের সাথে। তিনি জানান, 'মিটিং এ চেয়ারম্যান ও বিএনপির বাবুল আহম্মেদ ছিলেন। সেই মিটিং এ মারামারি হয়। পরে রাজ্জাক মিয়াকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শুনি সে মারা গেছেন।'
তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মাষ্টারের বলেন, 'আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ওই ওয়ার্ডের জাপার সাধারণ সম্পাদক। কাগজ কলমে এখনো দেয়া হয়নি। তবে বিষয়টি মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে।'
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, ‘এর আগেও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। আজও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। আমি ওই বৈঠকের সভাপতিত্ব করছিলাম। সেখানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। তবে শালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শালিশ বৈঠক বাতিল করে আমরা চলে আসি।’
অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ বলেন, ‘সালিশ বৈঠকে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ঘটনাটি ঘটার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পথিমধ্যে জানতে পারি, একজন মারা গেছেন। সে কারণে সালিসি বৈঠক ক্যান্সেল করা হয়েছে। আর এ কারণে ঘটনাস্থলে আমি আর যাইনি।'
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সালিসি বৈঠকে মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়া নামের এক ব্যাক্তি মারা গেছেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে পুলিশ।'