

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার প্রতাবপুর এলাকায় কৃষকলীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর ওই নেতার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগের তীর উঠেছে কোনাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানা গেছে।
এদিকে, মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে পুলিশ নূর মোহাম্মদের দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে। পরদিন মতিনের ভাই আলম নূর মোহাম্মদের দোকানে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে হত্যার হুমকি দেন।
নূর মোহাম্মদ বলেন, "আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো টাকা নেননি। এরপর আর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
