

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গত শুক্রবার সকালে এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি ফ্লাইটে করে এক যাত্রী তার পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বিমানটি যখন যাত্রী নিয়ে রানওয়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ওই যাত্রীর মনে পড়ে যে তিনি বাসায় তার বিয়ের শেরওয়ানি ফেলে এসেছেন।
যাত্রীর জেদ ও হট্টগোল শেরওয়ানির কথা মনে পড়তেই ওই যাত্রী বিমানটি থামানোর জন্য কেবিন ক্রুদের অনুরোধ করতে থাকেন। এ নিয়ে ক্রুদের সঙ্গে তার বেশ কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে নিজেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন পাইলট (ফার্স্ট অফিসার) পরিচয় দিয়ে তিনি চাপ সৃষ্টি করেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিমানের পাইলট ঘোষণা দেন যে, ওই যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বিমানটি আবার ‘বে’তে (যাত্রী ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান) ফিরে যাচ্ছে। রানওয়ের মুখ থেকে বিমানটি ঘুরে ফিরে আসায় অন্য যাত্রীরা অবাক ও ক্ষুব্ধ হন। এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা তবে এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বিষয়টিকে একটি 'কাকতালীয় ভুল বোঝাবুঝি' বলে দাবি করেছেন।
তার মতে, ওই যাত্রী যখন নামার জন্য জেদ করছিলেন, ঠিক তখনই বিমানের এয়ারকন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং ভেতরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
বাধ্য হয়ে পাইলট বিমানটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং টাওয়ারকেও যান্ত্রিক ত্রুটির কথাই জানান।
পাইলটের 'অসম্পূর্ণ' ঘোষণা ও বিভ্রান্তি তাহলে পাইলট যাত্রীকে নামানোর ঘোষণা কেন দিলেন? এ বিষয়ে এয়ার অ্যাস্ট্রা বলছে, পাইলট যাত্রীদের আসল যান্ত্রিক ত্রুটির কথা না জানিয়ে শুধু ওই যাত্রীকে নামানোর কথা বলেন।
পাইলটের এই 'অসম্পূর্ণ' ঘোষণার কারণেই মূলত সবার মনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের তৈরি হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই বিমানটি আর ওড়েনি। যাত্রীদের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অন্য একটি বিমানে করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। শেরওয়ানি নিয়ে যাত্রীর প্রত্যাবর্তন পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে এবং নতুন বিমানের ব্যবস্থা করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই সময়ের মধ্যে ওই যাত্রী বিমানবন্দর থেকে তার কাছাকাছি বাসায় গিয়ে শেরওয়ানি নিয়ে আসেন এবং পরের বিমানে বাকি যাত্রীদের সাথেই চট্টগ্রামে রওনা হন।
বিশেষজ্ঞদের মত ও আইন আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী, চরম চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা নিরাপত্তা হুমকি ছাড়া একবার বিমান ছেড়ে দিলে তা থামানোর কোনো সুযোগ নেই।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেরওয়ানি ভুলে যাওয়ার মতো সাধারণ কারণে বিমান থামানো সিভিল এভিয়েশনের আইনের পরিপন্থী। এই ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা ও পেশাগত নৈতিকতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে এবং এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সরকার ইতিমধ্যে এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে।

