

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর-নাগরিপাড়া সড়কে চলছে সংস্কারকাজ। তবে কাজ শেষ হতে না হতেই হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। পিস ঢালাইয়ের কোনো অস্তিত্বই যেন নেই সেখানে। নিম্নমানের কাজের এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ (সরাসরি সম্প্রচার) হওয়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জয়নগর থেকে নাগরিপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী ২৫ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করার কথা থাকলেও সড়কের কোথাও তার বাস্তবায়ন নেই। কার্পেটিংয়ের আগে পুরো সড়ক ভালো করে বিটুমিন (পিজ) দিয়ে ভেজানোর নিয়ম, কিন্তু বাস্তবে তাও করা হয়নি। ফলে সামান্য হাত দিতেই পুরো কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এই অনিয়ম নিয়ে ফেসবুকে প্রথম ৫ মিনিট ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও লাইভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা গাজী মিনার আলম। মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ বলেন, সড়কের কাজে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। এভাবে কাজ চললে তিন মাসও রাস্তা টিকবে না। আমি নিজে সড়কের মাঝখানে গর্ত করে দেখেছি, কোথাও ২৫ মিলি পিস ঢালাই দেওয়া হয়নি। এলজিইডির লোকজন এবং ইউএনও সাহেব এসে দেখে গেছেন। আমরা এখন দেখছি তারা কী ব্যবস্থা নেন।
আরেক বাসিন্দা গাজী মিনার আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা এলাকাবাসী মিলে মানববন্ধনে যাব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি বাস্তবায়ন করছে 'গাজী এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে লালমাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা কাউকে তোয়াক্কা না করে এভাবে দায়সারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক গাজী মনিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, সরকার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে, আমি ঠিক সেইভাবেই করছি। কাজের নিয়মের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, আপনি এলজিইডি অফিসে যান, বিস্তারিত ওইখান থেকে জেনে নিন। এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে শনিবার সকালেই জেলা এলজিইডি অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমিও বিষয়টি দেখেছি। আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে; সেগুলো মেনে কাজ করতে পারলে করবে, অন্যথায় কাজ বন্ধ থাকবে।
জানতে চাইলে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে যেন নিয়ম মেনে মানসম্মতভাবে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়, তা কঠোরভাবে বলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয় রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, আমাকে সড়কের ছবিও তথ্য দিন। খোঁজ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।