

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুলুয়া নদীর ওপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু উদ্বোধনের মাত্র তিন বছরের মাথায় ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। সেতুর একাংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর এই বেহাল অবস্থা।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দক্ষিণ পাশের রেলিংঘেঁষা অংশের পিচ ও আরসিসি ঢালাই ভেঙে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। নিচের মাটি ও সুরকি দেবে যাওয়ায় ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর ঠিকা এলাকায় নির্মিত এই সেতু কমলনগরের সঙ্গে নোয়াখালী সদরের হানিফ সড়কের সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জেলার সঙ্গে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শতশত যানবাহন ও অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করেন।
সেতুর পাশেই গড়ে উঠেছে ‘চরঠিকা স্মার্ট ভিলেজ’। লক্ষ্মীপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। এই স্মার্ট ভিলেজে যাতায়াতের প্রধান পথও এই সেতু। ফলে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা পুরো এলাকার মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে কমলনগর উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয়রা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুললেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ বলেন, “সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।