

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো এলাকা। বিশেষ করে যারা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখেছেন, তারা এখনো সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি থেকে বের হতে পারছেন না। অনেকেরই রাতে ঘুম হচ্ছে না; চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে মা ও তিন মেয়ের নিথর দেহ।
প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে শাহীনুর বেগমের পরিবার রায়পুর শহরে ভাড়া বাসা বসবাস করে আসছিল। দীর্ঘদিনের পরিচিত এ পরিবারটি এলাকার সবার কাছে ভদ্র ও শান্তিপ্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
প্রতিবেশী তাহমিনা আক্তার বলেন, ঘটনার পর থেকে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্য ভেসে ওঠে। মা ও মেয়েদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জীবনে এমন ঘটনা দেখিনি।
আরেক প্রতিবেশী রাবেয়া বেগম বলেন, রাতে ঘুমাতে গেলে বারবার সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে। এলাকার অনেক নারী এখনো আতঙ্কে রয়েছেন। মা ও মেয়েগুলো খুব ভালো ছিল। তাদের এমন মৃত্যু আমাদের সবাইকে কাঁদাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, শাহীনুর বেগমের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার মেধাবী ও নম্র স্বভাবের ছিল। পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর সুসম্পর্ক ছিল। তাই এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত করেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার আমীর মাস্টারের বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে (৯) হত্যা করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি যদি অন্তর মজুমদার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত থাকে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পরিবারের স্বজনরা জানান, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা মারা যান। আর ২০২৬ সালে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সিফাত। একের পর এক স্বজন হারানোর এই বেদনাময় অধ্যায় এলাকায়ও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।