

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া এক চিহ্নিত মাদক কারবারির এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা যায়নি পুলিশের ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফটিও। এ ঘটনায় ডিবির এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলসহ মোট ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বটতলী বাজার সংলগ্ন একটি ধানের জমি থেকে দেবনগর গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি জুয়েলকে আটক করেন সাদা পোশাকে থাকা ডিবি পুলিশের সদস্যরা। আটক করার পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েলকে আটকের সময় ডিবি সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই ডিবি সদস্যদের পরিচয় বুঝতে না পেরে ছিনতাইকারী বা দুর্বৃত্ত মনে করে তাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে জুয়েলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ডিবি সদস্যরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুয়েলকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে অভিযুক্ত মাদক কারবারি ও হাতকড়ার কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়ার মধ্যস্থতায় হাতকড়াটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ঘটনার দুই দিন পর, ১৭ জুন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়া বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই ডিবি সদস্যদের চিনতে পারেননি। ফলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, “সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান ঘটনার দুই দিন আগেই ডিএসবিতে বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় সেদিন তাকে থানা হাজিরায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।”
তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে।” এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পলাতক মাদক কারবারি জুয়েলকে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের হাতকড়া উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।