

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ইসলামী বক্তা ও দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী মুহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
সোমবার (২২জুন) রাত ৮টার দিকে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আল্লাহর ওলিগণ ইসলামের ধারক ও বাহক। তাদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা মুসলমানদের দায়িত্ব। মাজারে আগত ভক্তরা দান-অনুদান প্রদান করবেন, এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিষয়। এসব দানের অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানালেও, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন।
গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর মতে, মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দানের অর্থের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং যিয়ারতকারীদের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা আরও ফলপ্রসূ হতো। বিশেষ করে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, বসার ব্যবস্থা, অজুখানা ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, মাজারে আসা দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাজারের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা উচিত। তিনি মাজার সংলগ্ন একটি সুন্নী মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং দানের অর্থের একটি অংশ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মাজার ও যিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে মাজার ও ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে সুফীবাদী ও তরিকাপন্থী জনগণ তা প্রতিহত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এ বক্তব্য প্রদান করেন।